বেড়েছিল ৩২% আমদানি, প্রধানমন্ত্রী সোনা কিনতে নিষেধ করায় ধস নামল বাজারে

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশবাসীকে সোনা (Gold) কিনতে নিষেধ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তবে এটি প্রথমবার নয়, মে মাসে যখন যুদ্ধ মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখনও বিদেশ ভ্রমণের পাশাপাশি সোনা কেনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে মোদীর এই আবেদনের পরপরই গয়না সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম একধাক্কায় অনেকটাই কমেছে। এমনকি বিয়ের মরশুমের আগে বিক্রির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোনা কিনতে নিষেধ করায় গয়নার বাজারে পড়ল প্রভাব

প্রসঙ্গত, বিগত বেশ কয়েকদিনে সোনার বাজারের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। দিনের পর দিন বাড়ছিল দাম। তবে প্রধানমন্ত্রী সোনা কিনতে নিষেধ করাই আবারও দাম কমা শুরু হয়েছে। মোদী জানিয়েছিলেন, ভারতীয় পরিবারগুলির জন্য সোনা কেনার ধারা দীর্ঘদিন থেকেই প্রচলিত। তবে একান্ত প্রয়োজন না পড়লে সোনা কেনার আগে যেন ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি স্বদেশী ও আত্মনির্ভরশীলতার উপর বেশি মনোযোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন মোদী। তবে দ্বিতীয়বারের মতো এই ঘোষণা সামনে আসতেই কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর অনেকটাই পতন হয়।

এদিকে ভারত বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ। তবে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেকটাই কম। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গয়নার জন্য প্রয়োজনীয় সোনা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এমনকি জানলে অবাক হবেন, তেলের পর সোনা ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানি পণ্য। পাশাপাশি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এপ্রিলে শুরু হওয়া অর্থবর্ষের প্রথম ৪ মাসে সোনার আমদানি ৩২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে রুপির উপরেও চাপ সৃষ্টি হয়। এমনকি জুলাই মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারে।

আরও পড়ুন: দিনে ১২১ টাকায় ২৭ লক্ষের বেশি রিটার্ন, কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে দারুণ প্ল্যান LIC-র

আসলে যখন সোনার আমদানি বাড়ে, তখন ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর পড়ে প্রভাব। এতে রুপির মূল্য তলানিতে ঠেকে। এদিকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর কারণে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর এমনিতেই দিনের পর দিন চাপ বাড়ছে। তাই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সোনা আমদানি করার প্রয়োজন নেই বলেই জানান প্রধানমন্ত্রী। বরং সেটিকেই পুনর্ব্যবহার, বিক্রি বা ঋণের জন্য বন্ধক রাখা যেতে পারে বলে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।

Leave a Comment