প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পিতৃপক্ষকে (Pitru Paksha) হিন্দু ধর্মে এক বিশেষ তিথি হিসেবে পরিচিত। এইসময় পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা হয় এবং তাঁদের উদ্দেশে শ্রাদ্ধ, তর্পণ এবং পিণ্ডদানের বিশেষ নিয়মও পালন করা হয়। চলতি বছর পিতৃপক্ষ শুরু হয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে। যা আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিনে শেষ হবে। হিন্দু রীতি অনুযায়ী শ্রাদ্ধের (Shraddha) পর ব্রাহ্মণ ভোজন করানোর বিধি আছে শাস্ত্রে। কিন্তু ভুলেও সেই খাবার বিশেষ কয়েকজনকে খাওয়াবেন না, এতে ভয়ংকর বিপদ ঘটতে পারে। শুধু তাই নয়, বাড়িতে অশান্তি এবং ঝামেলা হতে পারে।
রীতি মেনে শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান করা হয়
শাস্ত্র অনুসারে বলা হয় মৃত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি ও আশীর্বাদ কামনায় শ্রদ্ধা সহকারে যে পারলৌকিক অনুষ্ঠান করা হয়, তাকেই শ্রাদ্ধ বলে। বিশ্বাস করা হয়, শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদানের ফলে মৃত ব্যক্তির সমস্ত পাপ ধুয়ে যায়। তবে বলা হয় শ্রাদ্ধের সম্পূর্ণ ফল পাওয়ার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিকেই শ্রাদ্ধের খাবার খাওয়ানো গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিতে বিশেষ কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শ্রাদ্ধের খাবার পরিবেশন এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। চলুন আমাদের আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণটা জেনে নিন বিস্তারিত।
শ্রাদ্ধের খাবার কাদের খাওয়ানো উচিত নয়?
মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুসারে, প্রতারণা করেন এমন ব্যক্তি, চোর, অন্যের ক্ষতি করে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করে এমন ব্যক্তি এবং মা-বাবা, গুরু বা ধর্মীয় কাজের বিরোধিতা করেন এমন ব্যক্তিকে শ্রাদ্ধের ভোজে আমন্ত্রণ করা উচিত নয়। এছাড়াও যাঁদের নখের রোগ আছে এবং কালো বা বিকৃত দাঁতবিশিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রাদ্ধে খাওয়ানো উচিত নয়। পাশাপাশি বিকৃত বা কুৎসিত রূপের অধিকারী ব্যক্তি, পরনিন্দাকারী ব্যক্তিদের শ্রাদ্ধের ভোজে আমন্ত্রণ করতে নেই বলে পুরান শাস্ত্রে বলা হয়েছে। এখন প্রশ্ন কাদের শ্রাদ্ধ ভোজন করানো উচিত।
আরও পড়ুন: জানেন পিতৃপক্ষে কাককে কেন খাবার দেওয়া হয়?
শাস্ত্রে যেমন শ্রাদ্ধ ভোজনের অযোগ্য ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে ঠিক তেমনই আবার যোগ্য ব্যক্তিদের কথাও নির্দিষ্ট করে বলা আছে। আমরা সকলেই জানি শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণ বা পুরোহিতদের অবশ্যই ডাকতে হয়। কিন্তু এরা ছাড়াও সাধু, ঋষি, তপস্বী এবং আপনার বাড়িতে বিনা আমন্ত্রণে আগত অতিথিদেরও শ্রাদ্ধ ভোজন করানো উচিত। শুধু তাই নয়, দরিদ্র, অভাবী এবং ক্ষুধার্তদের শ্রাদ্ধ ভোজন করালে প্রচুর পুণ্য লাভ হয়।