অনন্যা সরকার, হাওড়া: পূর্ব পরিকল্পনা মতোই মঙ্গলবার শুভারম্ভ হল ‘সারথি’ প্রকল্পের (SARATHI Scheme)। হাওড়ার ব্যাঁটরার স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই সাইকেল বিতরণ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এদিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্কুল শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের নানা পদক্ষেপের বিষয়েও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ছিল পড়ুয়াদের মোবাইল বা স্মার্টফোন ব্যবহার (Smartphone Addiction) প্রসঙ্গে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, স্কুল পড়ুয়াদের মোবাইল ফোন কেনার জন্য সরকারি অনুদান আগামী দিনে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
মোবাইল ফোন কেনার জন্য আর মিলবে না সরকারি সাহায্য?
হাওড়ার ব্যাঁটরা মধুসূদন পাল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বক্তব্য রাখার সময় তিনি এও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে স্কুল পড়ুয়াদের মোবাইল ফোন কেনার জন্য সরকারি ভর্তুকি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তাঁর কথায়, আগের সরকারের আমলে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের অধীনে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা মোবাইল ফোন কেনার জন্য এককালীন ১০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেত। তার পরিবর্তে, এই সরকার আরও বেশি টাকা খরচ করতেও প্রস্তুত আছে, কিন্তু অন্যভাবে।
মুখ্যমন্ত্রী হাওড়ার মঞ্চ থেকে স্পষ্ট জানান যে, তিনি স্কুল পড়ুয়াদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ঘোর বিরোধী। এর ফলে অনেক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ২০২২ সাল থেকে রাজ্য সরকার একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের স্মার্টফোন কেনার জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, স্কুল পড়ুয়াদের যতটা সম্ভব মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকাই ভালো। তিনি এই বিষয়টি নিয়ে স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। প্রয়োজনে, শুধুমাত্র পড়াশোনার জন্য ট্যাব কিনতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া যাতে পারে, কিন্তু পড়ুয়াদের মধ্যে মোবাইলের প্রতি আসক্তি তৈরি হতে দিলে চলবে না।
আরও পড়ুন: রোজভ্যালির টাকা এইদিন ফেরত পাবেন আমানতকারীরা, ডেডলাইন দিল হাইকোর্ট
উল্লেখ্য, এর আগেও শুভেন্দু অধিকারীকে স্কুল পড়ুয়াদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে আপত্তি তুলতে দেখা গেছে। ৫ সেপ্টেম্বর, শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, অত্যধিক মোবাইল ফোন ব্যবহার শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গুজরাটে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা তিনি সমর্থন করেন। বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়ার পরেও ছাত্রছাত্রীরা জেগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোনে মুখ গুঁজে থাকে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই এখন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা মোবাইল ফোন কেনার জন্য আর সরকারি সাহায্য পাবে কিনা বা কতদিন এই প্রকল্প চালু থাকবে, তাই নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।