অনন্যা সরকার, মহারাষ্ট্র: ইটালিয়ান পিৎজা, ইন্দো-চাইনিজ ফ্রাইড রাইস কিংবা খাঁটি ভারতীয় কড়াই পনির – নানা ধরনের সুস্বাদু পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ক্যাপসিকাম (Capsicum) বা বেল পেপার। জানেন কীভাবে হয় এই সবজির চাষ? উদ্যোক্তা প্রণিতা বামন মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ক্যাপসিকাম চাষকে ৪ কোটি টাকার ব্যবসায় অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করেছেন (Success Story of Agricultural Entrepreneur Pranita Vaman)। তিনি টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস থেকে এমবিএ (MBA) শেষ করে একটি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সংস্থায় ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান। সেখানে কাজ করতে করতেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যে কৃষিকাজকেই তিনি পেশা বানাবেন। সেই লক্ষ্যের দিকে পা বাড়িয়েই আজ এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন প্রণিতা।
এমবিএ স্নাতকের ক্যাপসিকাম চাষে সাফল্য
মহারাষ্ট্রের জুন্নার এলাকার এক কৃষক পরিবারেই বড় হয়ে ওঠা প্রণিতা বামনের। এমবিএ সম্পন্ন করে ইন্টার্নশিপ করার সময় তিনি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিকাজের সম্ভাবনা সম্পর্কে অবগত হন। ২০২০ সালে তিনি মাত্র এক একর জমিতে ‘পলিহাউস’ (Polyhouse Farming)-এর মাধ্যমে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করেন। পলিহাউস পদ্ধতিতে আর্দ্রতা, তাপমাত্রা সহ অনেকগুলি পরিবেশগত দিক নিয়ন্ত্রণ করে ফসলের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা যায়। পলিহাউস সারা বছর ধরে নির্দিষ্ট কিছু ফসল ফলানো সম্ভব করে তোলে। প্রণিতা তাই পলিহাউস চাষের ওপরই মনোযোগ দেন। যেহেতু এখন জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে, তাই ভালো আয় বজায় রাখার জন্য এধরনের পদ্ধতিই সবচেয়ে কার্যকরী বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
প্রথমে ব্রকলি ও লেটুসের মতো সবজির চাষের কথা ভেবেও, শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর জমিতে ক্যাপসিকাম চাষের সিদ্ধান্ত নেন। এই সবজিটি বেছে নেওয়ার পেছনে একটা বড় কারণ হল রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলোতে সারা বছর ধরেই ক্যাপসিকামের ব্যাপক চাহিদা থাকে। ২০২০ সালের মার্চ মাসে লকডাউন শুরুর ঠিক আগে প্রণিতা তাঁর ক্যাপসিকাম চাষের কাজ শুরু করেন। বীজ কেনা, সেচের ব্যবস্থা সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের জন্য তিনি প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। ব্যবসার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বাকি অর্থ তিনি পান সরকারি ভর্তুকি থেকে।
আরও পড়ুন: মাল্টা চাষে অভাবনীয় সাফল্য মালদার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের, এক পরামর্শেই হল কামাল
কিন্তু ফসল তোলার সময়ই লকডাউন শুরু হয়ে যায়। এদিকে ব্যবসার জগতে নতুন পা রাখার কারণে সবজির কোনও পাইকারি ক্রেতার সাথে প্রণিতার চেনা পরিচিতি ছিল না। অনেক চেষ্টার পর তিনি এমন একজন বিক্রেতার সন্ধান পান, যিনি তাঁর কাছ থেকে সবজি কিনতে রাজি হন। কারণ লকডাউনের সময় অনেক কৃষকই চাষাবাদ বন্ধ রেখেছিলেন। ব্যবসার শুরুতেই প্রথম দফায় ৪০ টন ক্যাপসিকাম উৎপাদিত হয়েছিল। তাই প্রথম বছরেই প্রণিতা বামনের ৩২ লক্ষ টাকার টার্নওভার হয়। বর্তমানে তাঁর ব্যবসার টার্নওভার ৪ কোটি টাকা এবং মুনাফার ২.২৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রণিতা এখন তাঁর উৎপাদিত পণ্য সরাসরি দাদার, নাসিক, জয়পুর ও অন্যান্য স্থানের পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন।