ধেয়ে আসছে সাইক্লোন ‘অর্ণব’, আমেরিকান মডেল নিয়ে বড় বার্তা IMD-র

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ফের দুর্যোগের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বাংলা। ধেয়ে আসছে সাইক্লোন অর্ণব (Cyclone Arnab)। বিভিন্ন আবহাওয়া অফিসের তরফে জানানো হয়েছে, বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্য অংশে অবস্থানরত অতি গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে এমন এক আবহাওয়াগত পরিবেশে রয়েছে, যা দ্রুত শক্তি সঞ্চয়ের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গে আজ বুধবার থেকেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে। কিছু জেলায় তো আবার আজ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে আসন্ন এই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে বড় তথ্য দিয়েছে আইএমডি (IMD)।

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’?

বর্তমানে নিম্নচাপটি রয়েছে, সেটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম মধ্য ও সংলগ্ন পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থান করছে। এর সঙ্গে রয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্তও। এটি আগামী কয়েক ঘণ্টায় পশ্চিম উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েক ঘন্টায় এটি পশ্চিম মধ্য ও সংলগ্ন উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর সেটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনই ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে সাফ জানাল আইএমডি।

আরও পড়ুনঃ তিন মাস বন্ধ থাকার পর ফের চালু ঈশ্বর গুপ্ত সেতুর টোল, বাড়ল চার্জও

আমেরিকান মডেলের পূর্বাভাসকে কার্যত অস্বীকার করে ভারতের মৌসম ভবন জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপ হিসেবেই এটি বৃহস্পতিবার ভোরে ওড়িশা-অন্ধ্রপ্রদেশ সংলগ্ন উপকূল অতিক্রম করতে পারে। সেই সময় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৫–৬০ কিলোমিটার হতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গে বৃহস্পতিবার দুর্যোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। পূর্ব মেদিনীপুরে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বন্যার সম্ভাবনা!

ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ডিভিসি (DVC) জলাধারগুলিতে জলস্তর বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত জল ছাড়া হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে নিম্নভূমি এলাকায় জলাবদ্ধতা ও স্থানীয় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

Leave a Comment