অনন্যা সরকার, মালদহ: কথায় বলে পরিশ্রম ও কষ্টের কোনও বিকল্প হয় না। শত বাধা ও প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই যারা কঠোর পরিশ্রম করে যান, তাদের সফল হওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারে না। যেমনটা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন মালদহের রুহুল আমিন (NEET UG Success Story of Ruhul Amin)। তিনি ‘ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি-কাম-এন্ট্রান্স টেস্ট’ (NEET UG)-এ সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। রুহুলের বাবা রফিকুল আলম কৃষক হওয়ার পাশাপাশি, গ্রামবাসীদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করে থাকেন। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর ডাক্তার হওয়ার অপূর্ণ ইচ্ছে তাঁর সন্তান পূরণ করবে। তাই আর্থিক অনটন সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি। অক্লান্ত পরিশ্রম করে রুহুল আমিন এবছর নিট পরীক্ষায় সফল হয়েছেন। আসুন তাঁর এই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।
অভাব অনটনের মধ্যেও স্বপ্ন পূরণের সংকল্প রুহুলের
রূহুল ২০২১ সালে চঞ্চলের ডিআইবি (DIB) হাই স্কুল থেকে ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন। এরপর ২০২৩ সালে হাওড়ার বাকসারা হাই স্কুল থেকে ৭৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। তারপর তিনি নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। প্রথমে গ্রামের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করলেও, প্রস্তুতি জোরদার করতে তিনি কলকাতার নিউ টাউনের আল-আমিন মিশনে ভর্তি হন। প্রথম দু’বার নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলেও তিনি হাল ছাড়েননি, তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় সফল হন।
এক সাক্ষাৎকারে রূহুলের বাবা রফিকুল আলম জানান যে, তাঁকে সারা জীবন আর্থিক কষ্টের মধ্যে থাকতে হয়েছে। আর্থিক সমস্যা সত্ত্বেও তিনি বিএ (BA) পাস করেন। এরপর সরকারি চাকরির জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তখন ভেবেছিলেন ছেলের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণ করবেন। রুহুল নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেছেন বলে মনে করছেন রফিকুল। তিনি বলেন যেদিন তাঁর ছেলে একজন যোগ্য ডাক্তার হয়ে গ্রামে ফিরবে, সেদিনই তাঁর স্বপ্ন সত্যি পূর্ণ হবে।
আরও পড়ুন: ছোটবেলা থেকেই দৃষ্টিশক্তি ক্ষীন, তবুও না হেরে দু’বার UPSC ক্র্যাক অটোচালকের ছেলের
রফিকুল বলেন, কৃষিকাজ ও গ্রামবাসীদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে তিনি মাসে যৎসামান্য আয় করেন। ওই আয়ে সংসার চালানো, ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগানো এবং অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় মেটানো কঠিন ছিল। কিন্তু তিনি কখনোই ছেলেকে সেই চাপের আঁচ বুঝতে দেননি। এখন তাঁর মনে হচ্ছে, সেই কঠোর পরিশ্রম অবশেষে সার্থক হয়েছে। রুহুল নিট পরীক্ষায় ৫৭৫ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক (AIR) ২০,৩০২ অর্জন করেছেন। তিনি জানান, তার গ্রাম থেকে আগে কখনও কেউ ডাক্তার হয়নি, তিনিই প্রথম ডাক্তার হতে চলেছেন। এখন গ্রামের দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।