সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে সরকারের হাতবদল হতেই যেখানে বিজেপির আশ্রয় নিয়েছে তৃণমূলের সিংহভাগ বিধায়ক-সাংসদরা, সেখানে নিয়ম করে প্রতিটি জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তুলোধোনা করছেন মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন! তবে রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচারে অংশ নিয়ে ফের একবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) চরম কটাক্ষ করে ছাড়লেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। এমনকি প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ভোট চোর’ বলে হুঙ্কার দিলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীকে চরম কটাক্ষ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের
এদিন রেজিনগরের জনসভায় দাঁড়িয়ে একেবারে নেচে নেচে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “তার কোনও কাজ নেই। সারাদিন হচ্ছে, চলো তৃণমূলের পেছনে কীভাবে কাটি মারব। কটাকে জেলে ঢোকালে ওসিকে ফোন করে। আজ আবার শ্রীরামপুর কনস্টিটিউন্সিতে জনসভা চলছে। লেগে পড়ো কাজে। শ্রীরামপুরে মিটিং করা চলবে না। যতজন যাবে, তাদেরকে জেলে ভরতে হবে। আপনারা এখানে বুঝতে পারছেন? ওর কাজই হচ্ছে তৃণমূল ধরো, আর জেল ভরো।”
এদিকে দেশজুড়ে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি ‘ভোট চোর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। জনসমক্ষে তিনি বলেন, “জ্ঞানেশই তো ভোট চুরি করে শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী করেছে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হল কী করে? ভোট চুরি করে তো? সবচেয়ে বড় চোর কে পশ্চিমবাংলায়? সবচেয়ে বড় চোর হচ্ছে পশ্চিমবাংলায় শুভেন্দু অধিকারী। সেই হচ্ছে ভোট চোর।”
আরও পড়ুন: চলছে অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন করে আবেদন, সঙ্গে নিয়ে যান এই ডকুমেন্ট
কল্যাণ আরও বলেন, “আমি তো ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়েছি, ভবানীপুর বিধানসভায় যে ইভিএম মেশিনগুলি আছে, সেগুলি একবার প্রেসের সামনে খুলে দেখিয়ে দিন। কাউন্ট করুন। দেখুন শুভেন্দু অধিকারী জেতে নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেতে। দেখে নিন। প্রতিটি জায়গায় ভোট চুরি করে জিতেছে। এই সাড়ে পাঁচ মাসে পশ্চিমবাংলায় কতগুলি ঘটনা ঘটেছে, এই পশ্চিমবাংলা কেন, ভারতবর্ষ এই ঘটনা দেখেনি। ৪ঠা মে নির্বাচনের পরে বিরোধী দলগুলিকে কেন্দ্র করে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর একটা বি-টিম তৈরি করেছে। সেই বি-টিম এখন খাম নিয়ে আপনাদের সামনে এসেছে। এরা হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর চামচা। আপনি জানবেন, ওদের একটা ভোট দিচ্ছেন মানেই শুভেন্দু অধিকারীকে ভোট দিচ্ছেন।”